পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে ২০২৪ | Documents Required for Passport 2024

পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে : যখন আপনি এক দেশ থেকে অন্য আরেক টি দেশে যেতে চাইবেন। তখন সর্ব প্রথম আপনাকে পাসপোর্ট করতে হবে।

পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে ২০২৪ | Documents Required for Passport 2024
পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে

তবে আমাদের মধ্যে এমন অনেক মানুষ আছেন। যারা মূলত এখন পর্যন্ত জানেনা যে, পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে। কারণ যখন আপনি পাসপোর্ট করতে যাবেন।

তখন আপনার বেশ কিছু ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হবে। আর আপনি যতক্ষণ না পর্যন্ত সেই ডকুমেন্ট গুলো সঠিক ভাবে প্রদান করতে পারবেন না।

ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি কোন প্রকার পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে পারবেন না। আর সে কারণেই সেই সময় আমরা জানতে চাই যে, পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে।

মূলত আজকের আর্টিকেলে আমি আপনাকে সে বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার ভাবে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করব। তবে আজকে শুধু মাত্র পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে সে বিষয় টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

বিষয় টি এমন নয়, বরং এর পাশাপাশি আপনি পাসপোর্ট সম্পর্কিত বিভিন্ন অজানা বিষয় সম্পর্কে জেনে নিতে পারবেন। যেমন নতুন পাসপোর্ট বয়স ভিত্তিক কি কি ডকুমেন্টস দিতে হয়।

আপনি আরোও জনাতে পারেন_

এর পাশাপাশি ই- পাসপোর্ট ফরম পূরণের নিদর্শণাবলী গুলো কি কি। এবং সবশেষে আপনাকে পাসপোর্ট সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ অজানা তথ্য দেয়ার চেষ্টা করব।

তো আপনি যদি এ যাবতীয় তথ্য গুলো সম্পর্কে জানতে চান। তাহলে চেষ্টা করুন আজকের আর্টিকেল টি মনোযোগ সহকারে পড়ার। যাতে করে আপনার পাসপোর্ট সম্পর্কিত কোন কিছু অজানা না থাকে।

তাহলে আর দেরি না করে চলুন সরাসরি মূল আলোচনা তে ফিরে যাওয়া যাক।

পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে ?

আপনি যদি একান্ত ভাবেই জেনে নিতে চান যে, পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে। তাহলে আমি আপনাকে এই প্রশ্নের উত্তর টি এক কথায় দিতে পারব না।

কারণ পাসপোর্ট করার জন্য মূলত বিভিন্ন প্রকারের ডকুমেন্ট এর প্রয়োজন হয়। আর আপনার আসলে কোন ধরনের ডকুমেন্ট গুলোর প্রয়োজন হবে।

সেটা কিন্তু আপনার বয়স এবং পেশা ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় গুলোর উপর নির্ভর করবে। যেমন ধরুন, আপনি যদি একজন ছাত্র হয়ে থাকেন।

তাহলে আপনার যেসব ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হবে।

অপরদিকে আপনি যদি একজন চাকরি জীবী হয়ে থাকেন। তাহলে কিন্তু আপনার আলাদা কিছু ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হবে। এর পাশাপাশি আপনি যদি ই পাসপোর্ট করতে চান।

সে ক্ষেত্রে কিন্তু আপনার আরও আলাদা কিছু ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হবে। তো এই কারণে এবার আমি আপনাকে আলাদা আলাদা ভাবে জানিয়ে দেয়ার চেষ্টা করব যে।

বয়স এবং পেশা অনুযায়ী আপনার পাসপোর্ট করতে কি কি লাগবে। এবং এখান থেকে আপনি স্পষ্ট ভাবে ধারণা নিতে পারবেন।

তো চলুন এবার তাহলে জেনে নেওয়া যাক যে, পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে এবং আপনার আসলে কোন ধরনের ডকুমেন্ট গুলোর প্রয়োজন হবে।

বয়স ভিত্তিক কিছু ডকুমেন্ট যা পাসপোর্ট করতে লাগে?

তো সবার শুরুতেই আমি আপনাকে জানিয়ে দিবো যে। নির্দিষ্ট পরিমাণ বয়স অনুসারে পাসপোর্ট করার জন্য কি কি ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হয়।

অর্থাৎ আপনি যদি স্বল্প বয়সের মানুষ হয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে আপনার যে ডকুমেন্ট গুলো প্রদান করতে হবে। অপরদিকে আপনি যদি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হয়ে থাকেন।

তাহলে কিন্তু আপনাকে আলাদা কিন্তু ডকুমেন্ট প্রদান করতে হবে। তো এই কারণে এবার আমি নির্দিষ্ট বয়স অনুসারে যে সকল ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হয়।

সে গুলো নিয়ে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করব।

আবেদন কারীর বয়স ৬ বছরের কম হলে

তো যখন আপনি এমন কোন মানুষের পাসপোর্ট করবেন। যার বয়স ৬ বছরের কম। সেক্ষেত্রে কিন্তু সেই মানুষের জন্য বেশ কিছু ডকুমেন্টস দেয়ার প্রয়োজন হবে।

আর এইসব ডকুমেন্টস দেয়ার পরবর্তী সময়ে আপনি। সেই ছয় বছর বয়সী কম মানুষের পাসপোর্ট করতে পারবেন। যেমন:

  1. সেই ৬ বছর কম বয়সী মানুষের বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি প্রয়োজন হবে। এর সাথে সাথে সেই জাতীয় পরিচয় পত্রের মূল কপি টি সঙ্গে রাখতে হবে।
  2. এর পাশাপাশি সেই মানুষটির এক কপি 3R সাইজের সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড এর কালার ছবি লাগবে। এবং সেই ছবি টি অবশ্যই ল্যাব প্রিন্ট হতে হবে।
  3. সেই সাথে উক্ত মানুষটির এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি প্রয়োজন হবে।
  4. এই মানুষটির ছবির পাশাপাশি উক্ত মানুষটির পিতা এবং মাতার দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি প্রয়োজন হবে।
  5. অবশ্যই তার পেশা ইন্ডিকেট করে দিতে হবে। তবে পেশার ক্ষেত্রে কোন প্রকার প্রমাণপত্র বা ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন নেই।

তো যে মানুষ গুলোর বয়স ৬ বছরের কম। সেই মানুষ গুলো যদি পাসপোর্ট করতে চায়। তাহলে যে সকল ডকুমেন্টস লাগবে। সেই ডকুমেন্ট গুলো সম্পর্কে উপরে উল্লেখ করা হয়েছে।

এবং এই ডকুমেন্ট গুলোর মাধ্যমে আপনি ছয় বছর এর কম বয়সী মানুষের পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনকারীর বয়স ৬ বছরের বেশী হলে কিন্ত ১৫ এর কম হলে

যদি কোন পাসপোর্ট এর জন্য আবেদনকারী ব্যক্তির বয়স ৬ বছর এর বেশি এবং ১৫ বছরের কম হয়। সে ক্ষেত্রে কিন্তু সেই আবেদন কারীর বেশ কিছু ডকুমেন্ট এর প্রয়োজন হবে।

আর সেই ডকুমেন্ট গুলো প্রদান করার পরেই সেই ব্যক্তি পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে পারবে। এবং সেই প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট গুলো হলো:

  1. সেই আবেদনকারীর পিতা এবং মাতার জাতীয় পরিচয় পত্রর ফটোকপি প্রদান করতে হবে। এর পাশাপাশি যে মুল কপি টি থাকবে, সেটি সঙ্গে রাখতে হবে।
  2. উক্ত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন এর সনদ প্রয়োজন হবে। আর সেই জন্ম নিবন্ধন সনদ টি অবশ্যই ইংরেজি ভার্সনে হতে হবে।
  3. অবশ্যই সেই ব্যক্তির পেশাগত প্রমাণ এর কাগজ পত্রের প্রয়োজন হবে। যেমন, সে ব্যক্তি যদি ছাত্র হয়। সে ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ বা  স্কুল আইডি কার্ড।
  4. এবং অন্যান্য কোন পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকলে। তার সেই পেশার প্রমাণ পত্র প্রদান করতে হবে।

তো পাসপোর্ট এর জন্য আবেদনকারী ব্যক্তির বয়স যদি ৬ বছরের বেশি এবং ১৫ বছরের কম হয়। সে ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তির যে সকল ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হবে।

তা নিয়ে উপরে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ২০ হলে

যখন কোন একজন ব্যক্তি পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করবে। এবং সেই ব্যক্তির বয়স যদি ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে হয়।  সে ক্ষেত্রে কিন্তু সেই ব্যক্তির বেশ কিছু ডকুমেন্টস প্রদান করার প্রয়োজন হবে। আর যখন সে ব্যক্তি উক্ত ডকুমেন্ট গুলো সঠিক ভাবে প্রদান করতে পারবে।

তখন সে ব্যক্তি পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে পারবে। আর পাসপোর্ট করার জন্য সেই প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট গুলো হল:

  1. সেই ব্যক্তির অবশ্যই জাতীয় পরিচয় পত্র প্রদান করতে হবে। সেই সাথে ফটোকপি দেয়ার পাশাপাশি মূল কপি টি সঙ্গে রাখতে হবে।
  2. যদি কোন কারনে সেই আবেদনকারী তার বাবা অথবা মায়ের জাতীয় পরিচয় পত্র প্রদান করে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই তার বাবা অথবা মায়ের মূল জাতীয় পরিচয় পত্র টি সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে।
  3. চেয়ারম্যানের পরিচয় পত্র লাগবে আর স্টুডেন্ট আইডি কার্ড এর ফটোকপি লাগবে।
  4. আর পটো কপিরদোকান থেকে নিজের প্রত্যায়ন পত্র লাগবে।

তো যদি কোন একজন আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ২০ বছর হয়। এবং সেই ব্যক্তি যদি পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করে। তাহলে উপরোক্ত ডকুমেন্ট গুলোর প্রয়োজন হয়ে থাকবে।

আবেদনকারীর বয়স ২০ বছরের বেশী হলে

যখন একজন পাসপোর্ট এর জন্য আবেদনকারী ব্যক্তির বয়স ২০ বছর এর বেশি হবে। তখন সেই ব্যক্তির আবেদন করার সময় বেশ কিছু ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হবে।

আর সেই পাসপোর্ট এর জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস গুলো হল:

  1. সেই আবেদনকারী ব্যক্তির অবশ্যই জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি দিতে হবে।
  2. সেই ব্যক্তি বর্তমান সময়ে কোন পেশার সাথে যুক্ত আছে। তা অবশ্যই প্রমাণপত্র প্রদান করতে হবে।
  3. চেয়ারম্যানের পরিচয় পত্র লাগবে আর স্টুডেন্ট আইডি কার্ড এর ফটোকপি লাগবে।
  4. আর পটো কপিরদোকান থেকে নিজের প্রত্যায়ন পত্র লাগবে।
  5. আপনি যদি বিবাহত হোন তাহলে কাবিন নামার ফোটোকপি লাগবে।

তো আপনার বয়স যদি ২০ বছর এর বেশি হয়। সে ক্ষেত্রে আপনার পাসপোর্ট এর জন্য যে সকল প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হবে।

তা নিয়ে উপরে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এবং এই ডকুমেন্ট গুলো প্রদান করার মাধ্যমে আপনি পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে পারবেন।

পাসপোর্ট এর জন্য পেশা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ন তথ্য

উপরে আমি আপনাকে একটা কথা বারবার বলেছি যে। পাসপোর্ট এর আবেদন করার সময় অবশ্যই আপনার প্রমাণ পত্র প্রদান করতে হবে। তবে এই পেশার ক্ষেত্রে মানুষ কিন্তু সবাই এক পেশা তে নিযুক্ত থাকবে না।

অর্থাৎ বিভিন্ন রকমের মানুষ বিভিন্ন রকম পেশার সাথে যুক্ত থাকবে। সে ক্ষেত্রে সেই ভিন্ন পেশায় যুক্ত থাকা মানুষদের ভিন্ন রকমের প্রমাণ পত্র প্রদান করতে হবে।

আপনি আরোও দেখতে পারেন…

চলুন এবার তাহলে জেনে নেওয়া যাক যে, কোন পেশার মানুষ কে কি ধরনের প্রমাণ পত্র প্রদান করার প্রয়োজন হবে।

ছাত্র হলে

আপনি যদি ছাত্র হয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে আপনার সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র প্রদান করতে হবে।

র পাশাপাশি আপনি যে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। সেই প্রতিষ্ঠান থেকে সনদপত্র ও আইডি কার্ড প্রদান করতে হবে।

বেকার হলে

অপরদিকে আপনি যদি একজন বেকার ব্যক্তি হয়ে থাকেন। এবং আপনি যদি পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে চান।তাহলে অবশ্যই আপনাকে স্থানীয় চেয়ারম্যান অথবা আপনার এলাকার কাউন্সিলর থেকে বেকারত্বের সনদ সংগ্রহ করতে হবে।

সরকারি চাকুরীজীবী হলে

যদি আপনি কোন চাকরিতে কর্মরত অবস্থায় থাকেন। তাহলে অবশ্যই আপনাকে  NOC নিতে হবে। আর আপনি যদি সেই চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করে থাকেন। তাহলে আপনাকে পেনশন বই প্রদান করতে হবে।

প্রাইভেট সার্ভিস

আপনি যদি একজন প্রাইভেট সার্ভিস প্রোভাইডার হয়ে থাকে। এবং নির্দিষ্ট কোন কোম্পানি তে চাকরি করে থাকেন। তাহলে অবশ্যই আপনাকে পাসপোর্ট এর আবেদন করার সময় একটি প্রত্যয়ন পত্র দেখাতে হবে।

কৃষক

একজন কৃষক হয়ে আপনি যদি পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে চান। সেক্ষেত্রে আপনার জমির পর্চা এর ফটোকপি দেখাতে হবে। তাহলে আপনি পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে পারবেন।

গৃহিনী

একজন মহিলা হয়ে আপনি যদি পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে চান। এবং আপনার পেশা যদি গৃহিনী হয়। সেক্ষেত্রে আপনার কোন প্রকার প্রমাণ পত্র দেয়ার প্রয়োজন পড়বে না।

আর আপনি যদি কোন সরকারি চাকরি করে থাকেন। তাহলে কোন ভাবেই পাসপোর্ট এর আবেদন পত্রে গৃহিণী উল্লেখ করবেন না।

ব্যাবসা

যদি আপনি একজন ব্যবসায়িক হয়ে থাকেন। এবং আপনি যদি পাসপোর্ট করতে চান। সে ক্ষেত্রে আপনার ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করতে হবে। তাহলে আপনি পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এর বাইরে ও যারা বিভিন্ন পেশার সাথে যুক্ত আছেন। যেমন, কেউ ডক্টর, ইঞ্জিনিয়ার, ইমাম, অথবা পুরোহিত হয়ে থাকেন।

তাহলে আপনাকে আপনার পেশার সাথে সংযুক্ত কাজের প্রমাণপত্র প্রদান করতে হবে। আশা করি এই বিষয় টি সম্পর্কে আপনি একবারে বিস্তারিত ভাবে জেনে নিতে পেরেছেন।

বৈবাহিক অবস্থা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ন তথ্য

যেহেতু আপনি জানতে এসেছেন যে, পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে। সেহেতু আপনার আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে জেনে নিতে হবে।

আর সেই বিষয় টি হলো যে, পাসপোর্ট এর ক্ষেত্রে যখন আপনি আবেদন করবেন। তখন অবশ্যই আপনার বৈবাহিক অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

চলুন এবার তাহলে জেনে নেওয়া যাক যে, পাসপোর্ট এর আবেদন করার সময় বৈবাহিক অবস্থার গুরুত্ব কি।

অবিবাহিত

যদি আপনি পাসপোর্ট করতে চান এবং আপনি যদি অবিবাহিত হয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে আপনার কোন প্রকার বৈবাহিক প্রমাণ পত্র প্রদান করার প্রয়োজন হবে না।

বিবাহিত

আপনি যদি অবিবাহিত অবস্থায় পাসপোর্ট করেন। এবং পরবর্তী সময়ে যদি আপনি বিবাহ করেন। তাহলে অবশ্যই আপনার বৈবাহিক সার্টিফিকেট প্রদান করতে হবে। সে ক্ষেত্রে আপনার কাবিন নামা কোট সার্টিফিকেট অথবা হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন সার্টিফিকেট প্রদান করতে হবে।

ডিভোর্স / নতুন স্বামী / স্ত্রী’র নাম যোগ

যদি কোনো কারণে বৈবাহিক অবস্থায় পাসপোর্ট করার পরে আপনার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এবং পরবর্তী সময়ে আপনি যদি পুনরায় নতুন কোন স্বামী অথবা স্ত্রী হিসেবে কারো সাথে আবদ্ধ হয়ে যান।

সে ক্ষেত্রে আপনাকে পুনরায় সেই নতুন স্বামী অথবা স্ত্রীর বিবাহ এর সার্টিফিকেট প্রদান করতে হবে।

ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে?

হয়তোবা আপনার বেশ ভালো করেই জানা থাকবে যে পাসপোর্ট এবং ই পাসপোর্ট এর মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণে পার্থক্য রয়েছে।

তো এতক্ষণ থেকে আপনি জানতে পারলেন যে, পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে। তবে এই বিষয় টি জানার পাশাপাশি এবার আপনাকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করব।

আর সেটি হলো যে, ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে। চলুন তাহলে সেই বিষয় টি সম্পর্কে স্বল্প আকারে ধারণা নেয়া যাক।

  1. ই পাসপোর্ট এর আবেদন এর অনলাইন কপি কে প্রিন্ট করতে হবে। এবং সেই কপি টি আপনাকে অফিসে নিয়ে যেতে হবে।
  2. পাসপোর্ট এপ্লিকেশন এর প্রিন্ট কপি প্রদান করতে হবে।
  3. আপনি পাসপোর্ট এর জন্য যে নির্ধারিত ফি প্রদান করেছেন, তার মূল কপি দেখাতে হবে।
  4. অবশ্যই আপনার জন্ম নিবন্ধন প্রদান করতে হবে। এবং সেই জন্ম নিবন্ধন টি ইংরেজি ভার্সনে হতে হবে যদি আপনার আইডি কার্ড না থাকে।
  5. আপনি যে বাংলাদেশের নাগরিক সে জন্য অবশ্যই আপনাকে বাংলাদেশী নাগরিক সনদ প্রদান করতে হবে। তবে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এই ধরনের কোন প্রকার সনদ প্রদান করার প্রয়োজন হবে না।
  6. যদি আপনার পূর্ববর্তী কোনো পাসপোর্ট থেকে থাকে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে সেই পাসপোর্ট এর ফটোকপি এবং মূল কপিটি সঙ্গে নিয়মিত হবে।

তো আপনি যদি ই পাসপোর্ট করতে চান। সেক্ষেত্রে আপনার এই ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে।

সেই বিষয় টি নিয়ে আমি উপরে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেছি। আর যদি আপনি ই পাসপোর্ট করতে চান। তাহলে অবশ্যই আপনার এই ডকুমেন্ট গুলো সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে।

ই-পাসপোর্ট ফরম পূরণের নির্দেশাবলী

এখন আমি e-passport ফর্ম পূরণের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনাবলী নিয়ে স্টেপ টু স্টেপ আলোচনা করব।

এই তথ্যগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ আপনি যদি ই-পাসপোর্ট করতে চান তাহলে অবশ্যই এই নির্দেশনাবলী একবার পড়ে নিবেন।

  1. ই পাসপোর্ট আবেদনের জন্য আপনি সকল কিছু অনলাইনের মাধ্যমে পূরণ করতে পারবেন।
  2. ই পাসপোর্ট আবেদন করার জন্য আপনার কোন কাগজপত্র সত্যায়ন করতে হবে না।
  3. ই পাসপোর্ট ফরম জমা দেয়ার সময় আপনার কোন প্রকার ছবি সংযুক্ত করতে হবে না এবং সত্যায়ন করতে হবে না।
  4. আপনি যখন ই পাসপোর্ট এর ফরম পূরণ করবেন তখন আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন এর ইংরেজি ভার্সন অনুযায়ী পাসপোর্ট এর নাম ঠিকানা পূরণ করতে হবে।
  5. যাদের বয়স 18 বছরের কম অর্থাৎ অপ্রাপ্তবয়স্ক তাদের ই-পাসপোর্ট আবেদন করার সময় অবশ্যই মাতা-পিতার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর উল্লেখ করতে হবে।
  6. অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন করার সময় অবশ্যই জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধনে দেয়ার সঠিক জন্ম তারিখ বছর দিতে হবে।
  7. 18 বছরের নিচে হলে অবশ্যই জন্মনিবন্ধনের ইংরেজি ভার্সনের ফটোকপি জমা দিতে হবে।
  8. আপনার বয়স যদি 18 থেকে 20 বছর হয়ে থাকে এবং জাতীয় পরিচয় পত্র যদি না পেয়ে থাকেন। তাহলে অবশ্যই জন্ম নিবন্ধনের ইংরেজি ভার্সনের কপি জমা দিতে হবে।
  9. আপনার বয়স যদি 20 বছরের বেশি হয় তাহলে অবশ্যই জাতীয় পরিচয় পত্র দাখিল করতে হবে।
  10.  তবে আপনি যদি বিদেশে থেকে থাকেন তাহলে অবশ্যই জন্ম নিবন্ধন এর ইংরেজি ভার্সন কপি দিয়ে আবেদন করতে পারবেন।
  11. অনলাইন আবেদন ফরম  পুরন করার পর তারকাচিহ্নিত স্থানগুলোতে অবশ্যই প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে হবে।
  12. অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন করার সময় অবশ্যই আপনার বর্তমান ঠিকানা এবং পাসপোর্ট আবেদনের ফরম জমা দেওয়ার অফিসের নাম উল্লেখ করতে হবে।
  13. 18 বছরের কম এবং 65 বছরের উপর যাদের বয়স তারা পাঁচ বছর এবং 48 পৃষ্ঠার বেশি পাসপোর্ট আবেদন করতে পারবেন না।
  14. প্রাসঙ্গিক কাগজপত্রে যেমন আপনি যদি একজন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার,  অথবা ড্রাইভার হন।
  15. তাহলে অবশ্যই আপনার লাইসেন্স অথবা সরকারি আইডি কার্ড ই পাসপোর্ট আবেদন করার ফরমের সাথে জমা দিতে হবে।
  16. (GO)/এনওসি (NOC)/ প্রত্যয়নপত্র/ অবসরোত্তর ছুটির আদেশ (PRL Order)/ পেনশন বই আপলোড/সংযোজন করতে হবে যা ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের নিজ নিজ Website এ আপলোড থাকতে হবে।
  17. আপনি যদি বিবাহিত থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনার বিবাহ কাবিন নামা ফটোকপি, নিকাহনামা এবং বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে তালাকনামা দাখিল করতে হবে।
  18.  অতি জরুরী পাসপোর্টের আবেদনের ক্ষেত্রে (নতুন ইস্যু) নিজ উদ্যোগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ সংগ্রহ পূর্বক আবশ্যিকভাবে আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে

আরো বিস্তারিত জানার জন্য ই পাসপোর্ট এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের পেজটি পড়ে নিতে পারেন।

পাসপোর্ট নিয়ে আরোও দেখুন…

আমাদের শেষকথা

প্রিয় পাঠক, আমরা যারা নতুন ব্যক্তি হিসেবে পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে চাই। তারা সবাই জানতে চাই যে, পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে।

আর সে জন্য মূলত আজকের এই আর্টিকেলে আমি আপনাকে স্পষ্ট ভাবে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছি যে। পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে। আশা করি আলোচিত এই আলোচনা থেকে আপনি এই বিষয় টি সম্পর্কে একেবারে পরিষ্কার ধারণা পেয়ে গেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top